সাম্প্রতিক সময়ে ‘ঠিকানায় খালেদ মহিউদ্দিন’ টকশোতে জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের কিছু মন্তব্য ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। টকশোটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে ইউটিউবে। পুরো টকশোটি দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।
পোশাক নির্ধারণে জাতীয় বোর্ড গঠনের প্রস্তাব :
টকশোতে সামান্তা শারমিন বলেন, “নারীদের পোশাক-আশাক কি হবে, পুরুষদের পোশাক-আসা কি হবে, শিশুদের পোশাক-আসা কি হবে? জাতিগতভাবে প্রয়োজন হলে নারী, পুরুষ ও শিশুদের নির্দিষ্ট পোশাক নির্ধারণের জন্য বোর্ড গঠন করতে হবে।”
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, একটি নির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালার ভিত্তিতে পোশাক নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও বিদ্রূপের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে নাগরিক স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
নারী ও পুরুষের সমতা বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া :
টকশোতে তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, “নারী ও পুরুষ সমান নাকি?” — এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরে সামান্তা শারমিন সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে কথাটি ঘুরিয়ে অন্য বিষয়ে চলে যান। এই ঘটনাটি দর্শকদের মধ্যে বিস্ময় এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
অনেকেই মনে করছেন, সমতা বিষয়ে তার দলের অবস্থান পরিষ্কার না করায় এটি তার দলের আদর্শের বিষয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। বিশেষ করে, একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া :
সামান্তা শারমিনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ফেসবুক, instagram এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রচুর মিম ও বিদ্রূপাত্মক পোস্ট তৈরি হচ্ছে।
কেউ লিখেছেন, “বোর্ড গঠন করা হলে কি আমাদের জামা-কাপড় পরার জন্য লাইসেন্স লাগবে?”
অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, “নারী ও পুরুষ সমান নয় বলে দিলে কি আর লজ্জা ছিল?”
পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা
তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে সমালোচনা এখনও থামেনি। অনেকেই মনে করছেন, সামান্তা শারমিনের এই বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য।
এই বিষয়টি নিয়ে আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন পোশাক নির্ধারণে বোর্ড গঠনের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য? আর সমতা বিষয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা কি ইঙ্গিত দেয় যে দলের অবস্থান পরিষ্কার নয়? মন্তব্যে জানাতে ভুলবেন না।


