রমজানে সিগারেট থেকে খেলাফতের ইফতার—লামিয়া ইসলামের দ্বিচারিতা ফাঁস!

রমজানে সিগারেট থেকে খেলাফতের ইফতার—লামিয়া ইসলামের দ্বিচারিতা ফাঁস!
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":256308,"total_draw_actions":7,"layers_used":2,"brushes_used":1,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"ai_enhance":1,"remove":3,"draw":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

রমজান মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের নারীবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে চলমান এক আন্দোলন হঠাৎ করে ছিটকে পড়ে এক অদ্ভুত বিতর্কে—এক নারী আন্দোলনকারী জনসমক্ষে সিগারেট খাওয়ায়! তবে এটি শুধুই ব্যক্তিগত আচরণ ছিল, নাকি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লামিয়া ইসলাম। গণতান্ত্রিক ছাত্র অধিকার পরিষদের একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত লামিয়া হঠাৎ করে আলোচনায় আসেন, যখন রোজার দিনে তিনি জনসমক্ষে সিগারেট খান। এরপর থেকেই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছাপিয়ে সামনে চলে আসে ব্যক্তিগত অনৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন।

কিন্তু আসল ষড়যন্ত্রটা কোথায়?

লামিয়া ইসলাম রমজানের দিনে সিগারেট খাওয়ার পর বিষয়টি দ্রুতই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষ করে, কালবেলা তাদের নিউজ পেজে “প্রতিবাদ মিছিলে রমজান মাসেও ধূমপান” শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যার ফলে আন্দোলনকারীদের ওপর গণহারে আক্রমণ ও bullying নেমে আসে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে অনেকে পুরো আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে থাকে, এবং নারীবাদী মঞ্চের ভেতরেই বিভক্তির সুর শোনা যায়।

যখন অনেকে এই ঘটনাকে ‘একজনের ব্যক্তিগত আচরণ’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছিলেন, তখনই সামনে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য—লামিয়াকে সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলন’-এর ইফতারে দেখা গেছে! প্রশ্ন উঠেছে, নারীবাদী আন্দোলনের প্রথম সারির একজন সংগঠক কীভাবে ইসলামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলেন? এটা কি কেবল কাকতালীয়, নাকি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি কৌশলগত চাল। নারীবাদী আন্দোলন বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক শক্তি অর্জন করেছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো। তাহলে কি লামিয়া ইসলাম ওই গোষ্ঠীর ‘এজেন্ট’ হয়ে নারীবাদী আন্দোলনের ভেতর ঢুকে পরিকল্পিতভাবে একে বিতর্কিত করেছেন?

ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল?

ওইদিন আন্দোলনে উপস্থিত থাকা অনেকেই বলেছেন, লামিয়ার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। আন্দোলনের মূল ইস্যু ছিল নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু করলেন, যা পুরো বিষয়টিকে কালচারাল যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিল। জনসম্মুক্ষে সিগারেট খাওয়ার বিষয়টি এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে পুরো আন্দোলনটির গতি থেমে যায় এবং মূল ইস্যুটি পেছনে পড়ে যায়। বিশেষ করে রোজার মাসে এমন একটি ঘটনা ।

শুধু বিতর্ক নয়, এটি ‘কালচারাল ওয়ার’!

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি সাধারণ বিতর্কের চেয়েও বেশি কিছু। এটি আসলে বাংলাদেশের চলমান ‘কালচারাল ওয়ার’-এরই অংশ। নারীবাদী আন্দোলন যখন সামাজিক পরিবর্তনের জন্য লড়াই করছে, তখনই পরিকল্পিতভাবে তাদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বিতর্ক কি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল?যদি লামিয়া ইসলাম সত্যিই খেলাফত আন্দোলনের গোপন এজেন্ট হয়ে থাকেন, তাহলে এটি নারীবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত হবে। আর যদি তিনি নির্দোষ হন, তবে প্রশ্ন থেকে যায়—কেন তিনি এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে এমন বিতর্কিত কাজ করলেন?

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ঘটনা কি কেবল একজনের দ্বিচারিতা, নাকি এটি একটি সুপরিকল্পিত চাল? রমজান মাসের মতো স্পর্শকাতর সময়ে এমন বিতর্ক কেন সৃষ্টি হলো? আর কারা এর পেছনে? আন্দোলনের ভেতরেই কি এজেন্ট ঢুকে গেছে, নাকি এটা শুধুই একটি ভুল বোঝাবুঝি? বিতর্কের আগুন এখনো থামেনি, বরং সময়ের সাথে সেটি আরও ঘনিভূত হচ্ছে!

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *