বামদলগুলোকে স্বৈরাচার তকমা দিলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা

বামদলগুলোকে স্বৈরাচার তকমা দিলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা

বামপন্থীদের ওপর স্বৈরাচারের দোসর হওয়ার অভিযোগ কতটা ভিত্তিহীন? বাস্তবতা কী বলে? বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বামপন্থী দলগুলোর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারের দোসর হওয়ার অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অথচ ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, এই অভিযোগের ভিত্তি কতটা দুর্বল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গবেষণার ভিত্তিতে প্রকৃত মিত্র কারা? ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে করা গবেষণায় দেখা যায়, ইসলামি দলগুলোর সিংহভাগই সরাসরি ক্ষমতাসীনদের সাথে মিত্রতা গড়ে তুলেছিল। ৭০টি ইসলামি দলের মধ্যে ৬৩টি দল আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে যুক্ত ছিল। অর্থাৎ, মোট ইসলামি দলের প্রায় ৯০ শতাংশই স্বৈরাচারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। অন্যদিকে, এই গবেষণায় দেখা যায় যে বামপন্থী দলগুলোর কোনোটিই আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির সাথে জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। বরং, তারা বরাবরই স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বামপন্থীদের ভূমিকা ২০১৮ সালের নির্বাচনে কয়েকটি বাম দল অংশগ্রহণ করেছিল। তবে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবেই ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ছিল।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সাথে যুক্ত বাম দলসমূহ: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি: মহাজোটের সাথে যুক্ত থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ৩টি আসনে বিজয়ী হয়। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু): আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জোটে থেকে ২টি আসনে জয়লাভ করে। স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণকারী বাম দলসমূহ: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি): স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কিন্তু তাদের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ): একইভাবে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং তাদের প্রার্থীদেরও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সিপিবি ও বাসদ মহাজোটের সাথে যুক্ত না থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। ফলে তাদেরকে ক্ষমতাসীনদের মিত্র হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো ভিত্তি নেই। বাস্তবতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে ইসলামি দলের মিত্রতার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতার সাথে হাত মিলিয়েছে ইসলামি দলগুলো, বামপন্থীরা নয়।

অথচ বামদের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। উপসংহার যারা বামদের স্বৈরাচারের দোসর বলে দোষারোপ করছে, তাদেরকে আগে বাস্তবতার আলোকে তথ্য বিশ্লেষণ করা উচিত। ইতিহাস প্রমাণ করে যে, বামপন্থীরা সবসময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছে এবং সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। বরং প্রকৃত মিত্রতার ইতিহাস রয়েছে ইসলামি দলগুলোর সাথে, যারা ক্ষমতার স্বার্থে আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয়েছে।

Show 1 Comment

1 Comment

  1. বামপন্থীদের উপর স্বৈরাচারের দোসর হওয়ার অভিযোগ প্রকৃতপক্ষে ভিত্তিহীন। বাস্তবতা হলো, বামপন্থীরা সবসময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছে। গবেষণা এবং ইতিহাস এই অভিযোগের দুর্বলতা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রকৃতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। প্রশ্ন হলো, এমন বিভ্রান্তি ছড়ানোর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *