দ্য বেঙ্গল লেন্স প্রতিবেদন
তারিখ: ১ মে ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটে অংশগ্রহণ না করে দেশের ৩০০টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বুধবার গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা নির্বাচনী জোট গঠনের বিষয়ে কোনো আলোচনা করিনি। তবে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য, সংস্কার এবং ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের কোনো রাজনৈতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা নেই। আমরা গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে উঠে এসেছি, তাই জনগণের পছন্দের নতুন গণতন্ত্রের পথেই আমাদের চলতে হবে।”
এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান ও লক্ষ্য
জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যার মূল লক্ষ্য হলো “দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র” প্রতিষ্ঠা করা। দলটি বর্তমান সংবিধানকে “সংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র” হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের অধিকার সুরক্ষা, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দূরীকরণ এবং সম্পদের সমবণ্টন নিশ্চিত করতে চায় ।
দলটি নিজেদেরকে মধ্যপন্থী ও বহুবাদী হিসেবে পরিচয় দেয়। এনসিপির নেতারা বলেন, তারা বাম বা ডানপন্থী রাজনীতির বাইরে থেকে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করতে চান। দলের মূলনীতি হলো সমতা, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন।
নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক পটভূমি
নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরে তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ।
নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে এনসিপির দৃষ্টিভঙ্গি
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের কোনো নির্বাচনী রোডম্যাপ নেই। যদি সংবিধান সংস্কার করতে হয়, তাহলে তা সংসদের মাধ্যমে নয়, জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো জোটে যাচ্ছি না, কারণ আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নতুন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, যা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দলটি এককভাবে ৩০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, তারা একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করতে চায়, যা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে।
—
